বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী হাসাপতালে বিনা অপারেশনে প্রসবকরানো নবজাতক,মা ও নার্স আবুল বশর পারভেজ, মহেশখালী :
মহেশখালী হাসপাতাল দ্বীপ উপজেলার ৫ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার এক মাত্র প্রধান সম্বল। যে হাসপাতালে একটি জটিল ডেলিভারীর জন্য সাগর ফাঁড়ি দিতে হয় রাত বিরাতে। এমন একটি দ্বীপে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১১৭টি শিশুর নিরাপদ ডেলিভারী সম্পন্ন হয়েছে।
যা কক্সবাজার জেলায় রেকর্ড অর্জন। অনেক সমস্যা ও নানান প্রতিকুলতার মাঝে বিপুল সংখ্যক গর্ববতী মা প্রসবকালীন সময়ে এত দ্রুত সেবা পাওয়ায় সরকারের চিকিৎসা সেবায় আলোর মুখ দেখছে সেবা প্রার্থীরা। মা ও শিশুর মৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা প্রদানে অনন্য ভুমিকায় অবদান রেখেছে মহেশখালী হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও মিড়ওয়াইফ। ১ মাসে ১১৭ জন নিরাপদ শিশুর প্রসব সেবা প্রদানের জন্য এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশংসা অর্জন করেছে মহেশখালী হাসপাতালের ডেলিভারী ইউনিট।
মহেশখালী উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৫ লক্ষ জন সাধরনের বসবাস।উপজেলা সদরের সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত মহেশখালী হাসপাতাল। এ হাসপাতালে জনবসতির প্রায় ৭০ ভাগ লোক মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।
বিগত সময়ে যে হাসপাতালে বছরে এ ১০জন শিশুর ডেলিভারী হয়নি। সে হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডেলিভারী সেবার হার ক্রমে ক্রমে বাড়তে বাড়তে ১মাসে ১১৭জন নব জাতকের নিরাপদ প্রসব করার ফলে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে সরকারী হাসপাতালে বিনা খরচে ডেলিভারী সেবায় মানুষের আস্ত বেড়েছে বহুগুন।
২০২০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর হতে ৩০শে সেপ্টেম্বর মাসে এমন গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানে আন্তরিক হওয়ায় হাসপাতাল কর্তপক্ষ দায়িত্ব প্রদান কারী নার্স ও মিড়ওয়াইফদের নিয়ে ১ ঘন্টার আনন্দ উৎসব ও পুরস্কারের আয়োজন করে। হাসাপতালটিতে বর্তমানে ২৩ জন নার্স এর পদ থাকলে কর্মস্থলে আছে মাত্র ৯জন,৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যাও অনেক কম ফলে ডেলিভারী ছাড়া অন্য রোগিদের ভাল মানের সেবা দিতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে।
বিনা খরচে এক মাসে ডেলিভারী চিকিৎসা পাওয়া রোগীর মধ্যে মহেশখালী পৌরসভা ১৭জন, বড় মহেশখালী ৪০জন,ছোট মহেশখালী ২৫জন,কুতুবজোম ১৫জন,হোয়ানক ১৯জন ও কালারমারছড়া ১জন।এরা সকলে উপজেলা হাসপাতালের ডেলিভারী ইউনিটে উপস্থিত হয়ে প্রসবকালীন সেবা পেয়েছে।
ওয়ার্ড ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন জানান, মাতৃত্ব সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে মহেশখালীতে একজন গাইনী কনসালটেন্ট ও এ্যানেশথেশিয়া পদায়ন করা হলে অপারেশন যোগ্য ডেলিভারী রোগিদের দ্রæত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা যাবে। নদী পারাপারের ঝুকি মুক্ত হবে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ডেলিভারী রোগী হিসাবে আগত রোগীদের মধ্যে থেকে অতি ঝুকিপূর্ন ৬জন কে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।
মহেশখালী হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা ডাঃ মাহাফুজুল হক জানায় , হাসাপতালে যে লেভার রুম রয়েছে তা অপ্রতুল। যে পরিমান ডেলিভারী রোগী সেবার জন্য আসছে তার জন্য ডেলিভারী লেভার রুমটি আরো বড় পরিসর ও গাইনাী কনসালটেন্ট এবং অজ্ঞানকারী প্রয়োজন। সেবার গতি আরো বাড়াতে পর্যাপ্ত জনবলকাটামো বাড়ার বিশেষ প্রয়োজন বলে দাবী করেন।
ভয়েস/জিকু।